back to top

ডিমে কিছুটা স্বস্তি হলেও পেঁয়াজের দাম বাড়তি

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০২:৪৫

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রামের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও সামান্য বেড়েছে।

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজের মজুত এখন প্রায় শেষের দিকে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকেও এই মুহূর্তে আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ নেই।

সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ বাড়ছে, আর তার প্রতিফলন পড়ছে খুচরা দামে।

বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছরই নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ ওঠার আগের সময়—অক্টোবর ও নভেম্বর—বাজারে পেঁয়াজের দাম চড়া থাকে।

ছোট আকারের দেশী পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকায় মিলছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও এসব পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—প্রতিটি বাজারে পেঁয়াজের দামে এই ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট।

বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, অক্টোবর পর্যন্ত দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালোই ছিল। কিন্তু নভেম্বরের শুরু থেকেই মজুত কমতে শুরু করে। সেই ঘাটতির সুযোগে বাজারে দাম বাড়ছে দ্রুত।

তাদের মতে, ডিসেম্বরের শুরুতে আগাম মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করলে দাম কমার সম্ভাবনা আছে। তার আগে নভেম্বরজুড়ে বাজারে দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী ও পেঁয়াজ আমদানিকারক আবদুল মজিদ বলেন, ‘এখন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেই। আবার দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দ্রুত আমদানির ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা অনুমতি চেয়েছি, কিন্তু এখনো পাইনি।’

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত বছরও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিতে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।

এদিকে শীতে বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফার্মের ডিম ও মোটা চালের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪০ টাকা। অন্যদিকে ভারত থেকে স্বর্ণা ও পাইজাম চাল আমদানি হওয়ায় চালের দামও কিছুটা কমেছে।

ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া গেছে।