কদিন আগে ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের হামজা চোধুরীর বাইসাইকেল কিকে গোলের দৃশ্য চোখে লেগে আছে ফুটবলভক্তদের।
তেমনি এক গোল দেখা গেলো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। স্কট ম্যাকটোমিনের চোখজুড়ানো বাইসাইকেল কিকের গোলে স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের জীবন যেন মুহূর্তেই বদলে গেল—বিশ্বকাপের স্বপ্ন হাতের নাগালে।
তবে ম্যাচে উত্তেজনার রোলারকোস্টারে উঠেছিল স্কটিশরা—কখনো ভালো, কখনো খারাপ, আবার কখনো আরও ভয়ংকর। শেষ পর্যন্ত আসে এক অপ্রতিরোধ্য উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ।
আরও পড়ুন
মংগলবার হ্যাম্পডেন পার্কে ডেনমার্কের বিপক্ষে ‘জয় মানেই বিশ্বকাপ’ সমীকরণে মাঠে নামে স্কটল্যান্ড।
ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ম্যাকটোমিনের নিখুঁত এক বাইসাইকেল কিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা—যা ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার মতোই এক মুহূর্ত।
কিন্তু এরপর শুরু হয় নাটক। ৬২ মিনিটে রাসমুস ক্রিস্টেনসেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের ডেনমার্ক দুইবার সমতায় ফেরে। ৮২ মিনিটে তাদের দ্বিতীয় গোল ম্যাচটিকে ২-২ করা মাত্রই স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ।
কিন্তু যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কিয়েরান টিয়ার্নির শট জাল খুঁজে পেলে ফের স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি (৩-২)। এতেও থেমে থাকে না নাটক।
শেষ সময়টা নষ্ট করতে বল ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন কেনি ম্যাকলিন। কিন্তু তিনি দেখেন গোলরক্ষক ক্যাসপার শ্মাইখেল অনেকটা বেরিয়ে এসেছেন।
সেখানেই সিদ্ধান্তের ঝলক—মিডফিল্ডের কাছ থেকে লব শটে বল গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে!
স্টেডিয়ামে বিস্ফোরণ—স্কটল্যান্ড ৪, ডেনমার্ক ২। এবং ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড! ডেনমার্ককে এবার প্লে-অফে লড়তে হবে মার্চে।
মধ্যপ্রাচ্যে আরেক রূপকথা
এর আগে বুধবারই মধ্যপ্রাচ্যে আরেক নাটকীয় ম্যাচে ১৭ মিনিট যোগ করা সময়ের পেনাল্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-১ গোলে হারিয়ে সামগ্রিকভাবে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইরাক।
ইরাকের কোচ গ্রাহাম আরনল্ড উত্তেজনায় মাঠের দিকে তাকাতেই পারেননি—তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে বুঝেছেন গোল হয়েছে কি না।
গোল হতেই তিনি সতীর্থদের আলিঙ্গনে ভেসে যান, এরপর সংবাদ সম্মেলনও ভেসে যায় খেলোয়াড়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।
ইরাক অবশ্য এখনো বিশ্বকাপে উঠেনি—তাদেরকে মার্চে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফ পেরোতে হবে। তবে আরনল্ডের নকআউট দক্ষতা বিবেচনায় কেউই তাদের বাতিল লেখার সাহস পাচ্ছে না।

