স্বামী উত্তম কুমার ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। সরকারি চাকরিরত থাকা অবস্থায় ‘অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ’ দিয়েই গড়েছিলেন ব্যাপক সম্পদ।
কিছু অর্থ রয়েছে নিজের নামে। বাকি সবই স্ত্রী শিল্পী রানী সরকারের নামে। সরকারি চাকরি না থাকলেও এখন কোটিপতি শিল্পী রানী সরকার।
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুদকের কাছে সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে কাস্টম হাউসের সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা উত্তম কুমার ও তার স্ত্রী শিল্পী রানী সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে দুদক।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলা দুটি দয়ের করেন।
এক মামলায় শিল্পী রানী সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অপর মামলায় উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
একটি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শিল্পী রানী সরকার তার স্বামী উত্তম কুমারের অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তিনি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ১৮৪ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন।
তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, তার প্রকৃত সম্পদ ১ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৭০২ টাকা। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে তিনি চাকরি ও ব্যবসার যে তথ্য দিয়েছেন, তা দুদকের মতে ভিত্তিহীন।
এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারায় মামলা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, উত্তম কুমার অসাধু উপায়ে অর্জিত নিজের অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া আয়ের উৎস সৃষ্টি করেছেন।
স্ত্রীর আয়কর নথিতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনে তিনি সহায়তা করেছেন বলে দুদকের অভিযোগ। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের আরেক এজাহারে উত্তম কুমারকে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৯০৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি দুদকে ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৪ টাকার সম্পদ দেখালেও তার বৈধ আয় ও ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী নেট সম্পদের তুলনায় উল্লেখিত পরিমাণ সম্পদের উৎস অস্পষ্ট পাওয়ায় এই মামলা রেকর্ড করা হয়।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনের নির্দেশে মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

