back to top

স্বর্ণের দামে পতন

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৩৬

ডলারের মান শক্তিশালী হওয়া এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ার প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা এখন দৃষ্টি রাখছেন বিলম্বিত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। খবর রয়টার্সের।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১২টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪,০৬৩.৮১ ডলার। ডিসেম্বরে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ০.৫ শতাংশ কমে ৪,০৬৩.৬০ ডলারে নেমে আসে।

ওয়ান্ডার সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, “গত দুই সপ্তাহে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ কারণেই স্বর্ণের দাম নিচের দিকে চাপের মধ্যে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম ৪,১০০ ডলারের নিচে নিষ্প্রভ থাকতে পারে। দাম বাড়তে চাইলে প্রথম বাধা ৪,১৫৫ ডলারে, আর নিচের দিকে গেলে তা ৪,০০০ থেকে ৩,৯৮০ ডলারের কাছাকাছি নামতে পারে।

ডলার সূচক দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ফেডের অক্টোবর মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি সুদের হার কমিয়েছে। তবে নীতিনির্ধারকরা সতর্ক করেছেন যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনআস্থা হ্রাস করতে পারে।

ট্রেডারদের ধারণা, ডিসেম্বরে ফেডের বৈঠকে সুদের হার কমার সম্ভাবনা এখন ৩৩ শতাংশ, যা বুধবার ৪৯ শতাংশ ছিল।

সুদের হার কম থাকলে স্বর্ণ সাধারণত ভালো করে, কারণ তখন এটি ধরে রাখার খরচ কমে যায়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়েও স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।

এদিকে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সরকারে অচলাবস্থার কারণে দেরিতে প্রকাশিত সেপ্টেম্বরে নন-ফার্ম পেরোল রিপোর্ট আজ প্রকাশ হওয়ার কথা। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট জানিয়েছে, তাদের স্বর্ণ মজুত মঙ্গলবারের ১,০৪১.৪৩ টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার ১,০৪৩.৭২ টনে পৌঁছেছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার ০.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫১.০৭ ডলারে। প্লাটিনামের দাম স্থির থেকে ১,৫৪৬.৮০ ডলারে রয়েছে এবং প্যালাডিয়াম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ১,৩৮৮.৫৮ ডলারে উঠেছে।