back to top

এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে শীতকালীন আগাম সবজি

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:৩৪

গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজি। নতুন করে বেড়েছে আলুর দামও। কেজিপ্রতি আলু এখন আগের চেয়ে প্রায় পাঁচ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ সমপ্তাহের বাজারে শীতের সবজি আসতে শুরু করলেও দাম কমেনি, বরং বেশির ভাগ শাকসবজিই বিক্রি হচ্ছে একটু বেশি দামে।

আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, এ বছর কয়েক মাস ধরে আলু কম দামে বিক্রি হয়েছে।

লাভ না হওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানে পড়েছেন। গত সপ্তাহেও খুচরা বাজারে আলুর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮–২০ টাকা। এখন সেটাই উঠেছে ২৫ টাকায়।

তবে গত বছরের তুলনায় আলুর বাজার এখনো অনেক নিচে। আগের মৌসুমে বেশি চাষ হওয়ায় আলুর উৎপাদন বেড়েছিল, আর সে কারণেই গতবছর দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও এবার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল।

টিসিবির তথ্য বলছে, গত বছর একই সময়ে আলুর দাম ছিল ৬৫–৭৫ টাকা কেজি।

কাজির দেউরি বাজারের বিক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, “পাইকারিতে ২০ টাকায় আলু কিনছি। এক বস্তায় ৬০ কেজির মধ্যে কয়েক কেজি পচা থাকে, আর কিছু থাকে ছোট সাইজের। ফলে ২৫ টাকায় বিক্রি করলেও তেমন লাভ থাকে না।”

পেঁয়াজের দামও কমার কোনো লক্ষণ নেই। বর্তমানে কেজিপ্রতি ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ, যা তিন সপ্তাহ আগেও ৩০ টাকা কম ছিল।

বিক্রেতারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মজুত প্রায় শেষের দিকে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও এক মাস লাগবে।

এ সময় সাধারণত দামে চাপ থাকে। বিদেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হলে বাজার স্থিতিশীল হতো, কিন্তু এখন আমদানির অনুমতি না থাকায় দাম বাড়তি রয়েছে।

শীতের আগমনী ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা—সবই বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু দাম এখনো ভোক্তার নাগালের বাইরে।

ফুলকপি ৮০, কাকরোল ১৬০, বাঁধাকপি ৬০-৭০, শিম ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, বরবটি, মুলার দামও ৭০ টাকার আশপাশে।

ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই মুঠো পালং কিনতেই ৮০ টাকা চলে গেছে। ফুলকপি-বাঁধাকপি নিতে আরও ৮০ টাকা। শীতে সবজি সস্তা হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো দুই–তিন রকম সবজি কিনতে ২০০ টাকা লাগছে।”

মুরগি, ডিম ও তেলের বাজারে আপাতত তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৫০–১৫৫ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০–২৮০ টাকা এবং এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০–১২৫ টাকায়।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম একই থাকলেও সরবরাহ কিছুটা কম বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজারচিত্রের সার্বিক অবস্থান বলছে—শীতের সবজি বাজারে এলেও দামের স্বস্তি পেতে ভোক্তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।