রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী-ঘোড়াশাল এলাকা।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানার পর কয়েক সেকেন্ডের ঝাঁকুনিতে জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের ঘটনায় দেয়ালচাপায় দুজন এবং স্ট্রোক করে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বাড়িঘর ও স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় বাসার দেয়ালচাপায় মারা যায় ওমর (১০) নামে এক শিশু।
শিশুটির পরিবার ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। ওমর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
অপরদিকে পলাশ উপজেলার কাজীরচর ডাংগা নয়াপাড়া গ্রামের সিরাজ উদ্দীনের ছেলে নাসির উদ্দীন (৬৫) ভূমিকম্পের সময় স্ট্রোক করে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয়।
এদিকে চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নিজ বাড়ির মাটির ঘরের দেয়ালচাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর চাচাতো ভাই আউয়াল মিয়া।
নিহত ওমরের চাচা জাকির হোসেন জানান, ভূমিকম্পের সময় দেলোয়ার হোসেন ওমরসহ তিন সন্তান নিয়ে বাইরে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির সানশেড ধসে তাঁদের ওপর পড়ে।
স্থানীয় লোকজন তাঁদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেন। পরে বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন। দেলোয়ার হোসেনের দুই মেয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে ভূমিকম্পের ধাক্কায় ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে যন্ত্রাংশ পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল শহিদ বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক বলেন, ‘ভূমিকম্পের ধাক্কায় সাবস্টেশনের অংশে আগুন ধরে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের কাজ চলছে।’
ঘটনার পর থেকে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেড় শতাধিক আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। দেয়াল ভেঙে পড়া, ছুটোছুটিতে পড়ে যাওয়া এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে অনেকেই আহত হন।
ভূমিকম্পের পর পুরো জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
জেলার বিভিন্ন স্থানের বাড়িঘর ও স্থাপনায় বড় ফাটল দেখা গেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে।
সার্বিক বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মো. সামসুদ্দিন বলেন, চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলীতে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিচে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন।
এঁদের মধ্যে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে উঁচু ভবন থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
