back to top

রাঙামাটিতে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৬:৫৭

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করেছে বিজিবি।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ১৪৫০ প্যাকেট (মোট ১৪৫ কার্টুন) ভারতীয় সিগারেট এবং ঢাকা মেট্রো–ন–১৫৯৩৮২ নম্বরের একটি মিনি ট্রাক পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়।

জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদের নির্দেশে মারিশ্যা জোনের সহকারী পরিচালক এডি মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল নলবনিয়া এলাকায় অবস্থান নেয়।

এ সময় পাহাড়ি গহিন পথে রেখে যাওয়া পরিত্যক্ত ট্রাকটি সন্দেহভাজন মনে হলে তল্লাশি চালানো হয় এবং এতে লুকানো অবস্থায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “আমরা পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। সীমান্ত এলাকাকে চোরাচালানমুক্ত রাখতে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে; জব্দকৃত সিগারেটগুলো মূলত: জনৈক রনি, আরমান ও রুবেল নামের কয়েকজন সিজক এলাকার সূজা চাকমার কাছ থেকে এসব অবৈধ শুল্কবিহীন ভারতীয় সিগারেট সংগ্রহ করে দীঘিনালা নিয়ে যাওয়ার জন্য মাছের ট্রাকে বিশেষভাবে প্যাকেটজাত করেছিলো।

স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবিকে জানালে বিজিবির টিম সিজক থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটিকে লাইল্যাঘোনার পশ্চিম পাড়ের দোকানের সামনে থেকে ট্রাকটিকে আটক করে।

এসময় ট্রাক থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিদেশী সিগারেট জব্দ করে। এসময় ট্রাকটি রেখে চালক পালিয়ে গেছে।

সম্প্রতি রাঙামাটির দুর্গম সীমান্ত এলাকা হয়ে ভারতীয় নকল বা অবৈধ পণ্য, বিশেষ করে সিগারেট, বিড়ি, মাদকদ্রব্য ও ভোগ্যপণ্যের চোরাচালান বেড়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে নিয়মিত এসব অবৈধ পণ্য পাচার করছে।

এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে নকল পণ্যের প্রবাহ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

নতুন করে বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দের ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো; বাহক পরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক আগের মতোই সক্রিয়।

বিজিবি বলছে, এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত টহলও মোতায়েন করা হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা না গেলেও ট্রাক এবং জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

পাহাড়ে ক্রমবর্ধমান চোরাচালান কার্যক্রম নিয়ে সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, সীমান্ত সুরক্ষা, স্থানীয় বাজার স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও বাড়ানো জরুরি।