back to top

সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:০১

পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক লিটন দাস ঝড় তুলে ইনিংস বড় করলেন। তাদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতের পরও দ্রুত ৪ উইকেট হারানোয় শেষদিকে তৈরি হলো শঙ্কা।

তা দূর করে দারুণ ক্যামিও খেলে বাংলাদেশকে বন্দরে পৌঁছে দিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আন্তর্জাতিক টি২০তে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ার রেকর্ড গড়ে সিরিজে ফিরল টাইগাররা।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শনিবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি২০তে ৪ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।

ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা টেনেছে তারা। টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে আইরিশরা।

জবাবে ২ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট খুইয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

চট্টগ্রামে শনিবার দ্বিতীয় টি২০তে ঘরের মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল টি২০ রান তাড়া করে আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতায় ফিরল টাইগাররা।

আজ (শনিবার ২৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭১ রানের লক্ষ্য দুই বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে টাইগাররা।

এর আগে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ার রেকর্ড ছিল ১৬৫ রান, ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ,নতুন এই রেকর্ডের সঙ্গে সিরিজও এখন ১-১ সমতায়।

লিটন দাসের দৃষ্টিনন্দন হাফসেঞ্চুরি আর পারভেজ হোসেনের ঝলমলে শুরুর ওপর ভর করে শুরুটা ছিল বেশ মসৃণ। কিন্তু শেষদিকে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়ে বাংলাদেশের। ঠিক সেই সময় মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ছক্কা-চার মেরে দলকে ম্যাচে ফেরান।

শেষ ১০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। মার্ক অ্যাডায়ারের এক ওভারে সাইফউদ্দিন একটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেন।

আর শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান। জশ লিটলের চতুর্থ বলটি কাভারের ওপর দিয়ে ঠেলে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয়সূচক রান তুলে নেন শেখ মেহেদি হাসান।

এর আগে ব্যাট হাতে লিটন দাস ৩ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৭ বলে ৫৭ রান করেন। পারভেজ ২৮ বলে ৪৩ করে আউট হন।

আয়ারল্যান্ড আগে ব্যাট করে ১৭০ তোলে। পাওয়ারপ্লেতে পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর ঝড় তুলে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন। স্টার্লিং ১৪ বলে ২৯ করে আউট হন, টেক্টর করেন ২৬ বলে ৩৮।

৭৫ রানে শূন্য উইকেট থেকে দারুণ অবস্থায় থাকলেও মাঝের ওভারগুলোতে গতি হারায় আয়ারল্যান্ড, যার বড় কারণ মেহেদি হাসানের দুর্দান্ত স্পেল।

প্রথম ওভারে ১৩ রান খরচের পর দারুণ প্রত্যাবর্তনে একই ওভারে টিম ও হ্যারি টেক্টরকে আউট করেন। পরে বেন ক্যালিটজকেও আউট করেন।

আর ২৭ রানে ওভাবে রক্ষা পেয়ে সেই ডেল্যানির পরের ওভারেই চার ও ছক্কা মারেন লিটন। অধিনায়কের ব্যাটে দল গিয়ে যাচ্ছিল হেসেখেলে। দাপুটে জয়ের ছবি স্পষ্ট হচ্ছিল ক্রমেই।

সেটিই ঘোলাটে হয়ে যায় লিটনের বিদায়ের পর। পরের ওভারেই বিদায় নেন সাইফ হাসান (১৭ বলে ২২)। তাওহিদ হৃদয় (৯ বলে ৬) ও নুরুল হাসান সোহান (৭ বলে ৫) দৃষ্টিকটু ব্যাটিংয়ে বিদায় নেন দলকে চাপে ফেলে।

ম্যাচ জমে ওঠে দারুণভাবে। আইরিশরা তখন বেশ উজ্জীবিত।

তবে ১০ বলে ১৪ রানের সমীকরণে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে দারুণ এক ছক্কা মেরে দলকৈ চাপমুক্ত করেন সাইফ উদ্দিন।

এক বল পর আরেকটি চারে নিশ্চিত করে দেন ম্যাচের ভাগ্য। শেষ ওভারে নাটকীয় কিছু আর হয়নি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭০/৬ (স্টার্লিং ২৯, টিম টেক্টর ৩৮, হ্যারি টেক্টর ১১, টাকার ৪১, কালিৎজ ৭, ডকরেল ১৮, ডেল্যানি ১০*; মেহেদি ৪-০-২৫-৩, নাসুম ৪-০-৩১-০, তানজিম ৩-০-১৭-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৪০-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৯-০, সাইফ হাসান ১-০-৭-০)।

বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/৬ (পারভেজ ৪৩, তানজিদ ৭, লিটন ৫৭, সাইফ ২২, হৃদয় ৬*, সোহান ৫, সাইফ উদ্দিন ১৭*, শেখ মেহেদি ৬*; হামফ্রিজ ৪-০-৩৮-০, অ্যাডায়ার ৪-০-৩৬-২, ম্যাককার্থি ৪-০-২৭-০, লিটল ৩.৪-০-৩৯-০, ডেল্যালি ৪-০-২৮-২)।

ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজের দুটি শেষে ১-১ সমতা।
ম্যান অব দা ম্যাচ: লিটন কুমার দাস।