back to top

রাত পেরিয়ে ভোর তবুও উত্তাল শাহবাগ, অবস্থানে অনড় ছাত্র-জনতা

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০০:২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতবরণের সংবাদে শোক আর ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে রাজধানী।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে শাহাদাতবরণের সংবাদ আসার পরপরই রাস্তায় নেমেছে আসে ছাত্র-জনতা। রাতভর চলে শোকার্ত জনতার প্রতিবাদ, মিছিল, বিক্ষোভ।

রাত পেরিয়ে আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরেও তারা তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা সমবেত হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

রাত বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা।

রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে আন্দোলনের নতুন মাত্রা যোগ হয় যখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল মিছিল ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছায়।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আন্দোলনকারীদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর স্লোগানে এসময় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বিক্ষুব্ধ জনতা শাহবাগ মোড়ের চারদিকের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে অনেক জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।

রাজপথের মিছিলে এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কঠোর সব স্লোগান—দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা!, ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান!, আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?, আমরা সবাই হাদী হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো!।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ওসমান হাদীকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান জবাবদিহি মেলেনি।

তারা দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

মধ্যরাত থেকেই শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ থাকায় কাওরান বাজার, মৎস্য ভবন, বাংলামটর ও সায়েন্স ল্যাব অভিমুখী সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যেরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

তবে বিক্ষোভকারীদের তীব্রতার মুখে তারা কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছেন।