back to top

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড,বেড়েছে জাহাজও

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:০৪

বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলমান থাকলেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা প্রতিকূলতার পরও ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার কয়েকদিন বাকি থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চলতি বছরের কার্যক্রম।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে মোট ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের পুরো বছরের তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার বেশি।

২০২৪ সালে বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল।

বছরের অবশিষ্ট সময়ে এই সংখ্যা আরও বাড়বে এবং বছর শেষে তা ৩৪ লাখ টিইইউএস ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউএস, ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস, ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস এবং ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল।

শুধু কনটেইনার নয়, কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যেখানে গত বছর পুরো বছরে ছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ১৪ টন।

অর্থ্যাৎ, চলতি পঞ্জিকাবর্ষে ১ কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৪ টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১২ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৩ টন, ২০২২ সালে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন, ২০২১ সালে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ১৫৮ টন এবং ২০২০ সালে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৭২৪ টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

একই সঙ্গে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে বন্দরে ৩ হাজার ৮৫৭টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হলেও ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৯৬টিতে।

২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১০৩; ২০২২ সালে ৪৩৬১টি, ২০২১ সালে ৪২০৯টি এবং ২০২০ সালে ৩৭২৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন ও হারবার) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করা, কাস্টমসের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় এবং ইয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট নতুনভাবে সাজানোর ফলে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রেকর্ড পরিমাণে কন্টেইনার এবং কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। “জাহাজের অপেক্ষমান সময় প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা গেছে। এর ফলে জাহাজ সাথে সাথে বার্থিং পাচ্ছে এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ই-গেট পাস, কন্টেইনার ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেমের ফলে স্বচ্ছতা এসেছে এবং ভোগন্তিও কমেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মার্কি কোস্ট গার্ডের আইএসপিএস অডিটে প্রথমবারের মতো ‘জিরো অবজারভেশন’ পেয়ে নিরাপদ ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত হয়েছে।”

আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, এ অর্জন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।