back to top

‘মব সন্ত্রাসে’ হত্যা বেড়েছে: আসক

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০৮

চলতি বছরের অন্যতম গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ছিল মব সন্ত্রাস করে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ড।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন। এর আগের বছর মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হন অন্তত ১২৮ জন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে ২০২৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) এক পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য জানানো হয়।

দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত মানবাধিকার সম্পর্কিত সংবাদ এবং আসকের পর্যবেক্ষণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

আসকের তথ্যানুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সময়কালে কমপক্ষে ২৯৩ জন নাগরিক মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন।

মব সন্ত্রাস করে নারী, পুরুষ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক অনেক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, বাউল সম্প্রদায়ের মানুষসহ অনেক মানুষকে হেনস্তা করা হয়েছে, মারধর, জুতার মালা পড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।

আসকের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ২০২৫ সালে ঢাকায় সর্বাধিক ২৭, গাজীপুরে ১৭, নারায়ণগঞ্জে ১১, চট্টগ্রামে ৯, কুমিল্লায় ৮, ময়মনসিংহে ৬, বরিশালে ৬, নোয়াখালীতে ৬, গাইবান্ধা জেলায় ৬, শরীয়তপুরে ৬, লক্ষীপুরে ৫, সিরাজগঞ্জে ৫, টাঙ্গাইলে ৫, নরসিংদীতে ৪, যশোরে ৪ জনসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ১৯৭ জন ব্যক্তি নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গণপিটুনির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য মাসের থেকে বেশি ঘটেছে। এই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন, যদিও অধিকাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন দল-মত নিরপেক্ষ সাধারণ নাগরিক।

সংগৃহীত তথ্যে আরও দেখা যায়, গণপিটুনির শিকারদের মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত সাত জন সদস্য, নারী তিন জন এবং একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন, যা এই সহিংসতার সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর অসম প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং একে একটি গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করে।

এ বছর সংগঠিত মব সহিংসতাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজনৈতিক ভিন্নমত, ধর্মীয় উগ্রবাদ, গুজব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ মব সহিংসতাগুলো সংঘটিত হয়।

তওহিদি জনতার নাম ধারণ করে মব সন্ত্রাস করে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র ভাঙচুর, নারী ও ভিন্ন মতাবলম্বিদের হেনস্তা করা হয়েছে।