চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন ও তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
প্রথম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী জিয়াউল হক সুমন দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
একইসঙ্গে তার নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জিয়াউল হক সুমন ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া যায়।
২০১৩-১৪ থেকে ২০২১-২২ করবর্ষে প্রদর্শিত আয়ের বড়ো একটি অংশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্রও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি বলে দুদক জানায়।
দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি স্বামীর সহায়তায় ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন।
এ ঘটনায় শাহানাজ আকতার ও জিয়াউল হক সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শাহানাজ আকতার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শিত আয়ের তুলনায় তার প্রকৃত সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি।
যাচাইয়ে দেখা যায়, তার নামে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি।
দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত চলাকালে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আইনগতভাবে আমলে নেওয়া হবে।
কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে ২২ ডিসেম্বর মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়।


