চলতি জানুয়ারিতে শীতের প্রকোপ আরো বাড়তে পারে । একইসাথে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস।
এ সময় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা, কখনও কখনও দুপুর পর্যন্তও থাকতে পারে। কুয়াশার ব্যপ্তিকাল বেশি হওয়ায় সূর্যের আলো কম মিলছে, ফলে দিনের তাপমাত্রাও কম অনুভূত হচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়ছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাস, উর্ধ্বাকাশে শীতল বায়ুপ্রবাহ, সূর্যালোকের ঘাটতি, কুয়াশার দীর্ঘ উপস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ শীতকে আরও তীব্র করেছে। ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি সক্রিয় থাকলে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে সাধারণত শীত কিছুটা বেশি হয়। পাশাপাশি বায়ুদূষণের কারণে বাতাসে ভাসমান কণা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘লা নিনা’ (La Niña) হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি জলবায়ু ঘটনা, যেখানে নিরক্ষীয় অঞ্চলের পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, যা এল নিনোর বিপরীত; এর ফলে শক্তিশালী বাণিজ্য বায়ু উষ্ণ জলকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয় এবং ঠান্ডা জল ওপরে উঠে আসে, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনে—সাধারণত দক্ষিণ এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় বেশি বৃষ্টি এবং আমেরিকায় শুষ্কতা আনে।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সংলগ্ন এলাকাকে সাধারণত উষ্ণ অঞ্চল ধরা হলেও জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের কারণে রাজধানীতেও এবার শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।


