শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) বৃত্তি তহবিলের ৫ম শ্রেণীর সমমানের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬, বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় পটিয়াস্থ খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজে সম্পন্ন হয় মেধাবৃক্তি ২০২৬।
বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্ব সমাদৃত ত্বরিকা-ই মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জন্মদ্বিশত বার্ষিকী ও ১২০তম মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ উপলক্ষে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট -এর শিক্ষা প্রকল্প ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) বৃত্তি তহবিল’ আয়োজিত ২০২৫ পর্বের প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আটটি উপজেলার (আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগড়া, সাতকানিয়া এবং কর্ণফুলী) ৫ম শ্রেণীর সমমানের আট শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।
বৃত্তি তহবিলের সদস্য আবু সালেহ সুমনের সঞ্চালনায় ও কর্ণফুলী আবদুল জলিল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যে সকল শিক্ষার্থী আজ বৃত্তি পেতে যাচ্ছ কিংবা যারা বৃত্তি পাবে না, তোমাদের প্রতি আহবান থাকবে তোমরা মানবিক মানুষ হও, নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হও।
সমাজ ও দেশকে আলোকিত করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে এ প্রত্যাশা করি। শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রাস্ট ও বৃত্তি তহবিলের এ ধরনের আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব বলেন, শিক্ষার্থীগণ সুন্দর সমাজ গঠনে, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা, শোষণমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ট্রাস্টের বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি বলেন, একইদিনে পরীক্ষা গ্রহণ উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ করে বৃত্তি প্রদান করা বিরল। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ নাফিজ তালুকদার, নাতে মোস্তফা (দ.) পরিবেশন করেন মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আবছার ও মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন হাসান আল ইমরান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বৃত্তি তহবিলের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য ডা. কৌশিক সায়মন শুভ, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৮ উপজেলার শাখা কমিটি সমূহের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী ও তাজকিয়ার সদস্যবৃন্দসহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ৫ জনকে টেলেন্টপুলে এবং প্রতি উপজেলায় অনধিক ৩ জন করে সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
টেলেন্টপুলে বৃত্তির পরিমাণ ছিলো দশ হাজার টাকা (এককালীন) এবং সাধারণ বৃত্তি ছয় হাজার টাকা (এককালীন)। বৃত্তিরপ্রাপ্তদের সার্টিফিকেট এবং বেশ কিছু বইও পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়।
