চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নানা নাটকীয়তার মধ্যে মনোনয়নের বৈধতা লাভ করা বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই । আওয়ামী লীগের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে জসিম উদ্দিনের বিএনপি দলীয় টিকিট প্রাপ্তি, মনোনয়ন লাভ মিয়ে নানা চড়াই উৎরাই- প্রতিটি কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম জুড়ে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে । বর্তমানে জসিম উদ্দিন কাহিনী টক অব দ্য চিটাগাং এ রূপ নিয়েছে । নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া তার সম্পদের তথ্য নিয়েও চলছে আলোচনা ।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, জসীম উদ্দীনের হাতে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ কোটি ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৯ টাকা। অথচ ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তার নগদ অর্থ ছিল মাত্র ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৯১ টাকা।
তার স্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বর্তমানে তার হাতে নগদ রয়েছে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ টাকা, অথচ দেড় বছর আগে ছিল মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, জসীম উদ্দীনের কৃষিখাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৬ টাকা এবং মূলধনী আয় ১ কোটি ২০ লাখ ৬২ হাজার ১০০ টাকা।
দেড় বছর আগে যে বৈদেশিক আয় ও তার স্ত্রীর ব্যবসায়িক আয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সবশেষ হলফনামায় সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।
বর্তমানে জসীম উদ্দীনের কৃষিজমির পরিমাণ ১.৩৩ একর, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা। অথচ দেড় বছর আগে তার কৃষিজমি ছিল মাত্র ১৬ শতক।
- চন্দনাইশে ২টি বাড়ি (অর্জনমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা)
- কক্সবাজারে ৩০টি ফ্ল্যাট ও ৬টি মিনি ফ্ল্যাট
- চট্টগ্রাম নগরের খুলশি ও পাঁচলাইশে মোট ৮টি ফ্ল্যাট।
হলফনামা অনুযায়ী, হোটেল আইবিআইএসের চেয়ারম্যান হিসেবে সোনালী ব্যাংক থেকে নেওয়া তার ঋণ ১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অথচ দেড় বছর আগে তার মোট ঋণ ছিল প্রায় ৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে তার ঋণ কমেছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা কিন্তু সেই অনুযায়ী আয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
আয়কর রিটার্নে জসীম উদ্দীনের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ ৪০ কোটি টাকা। তার স্ত্রীর আয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৭ হাজার টাকা, সম্পদ প্রায় ৩ কোটি টাকা।


