ফুটবল দুনিয়ায় গুঞ্জনের কমতি নেই। তবে এবার যে গুজবটি ছড়িয়েছে, তা শুনে অনেকেই চোখ কপালে তুলছেন।
লিওনেল মেসি নাকি আবার ইউরোপে ফিরছেন—আর গন্তব্য হতে পারে লিভারপুল!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও কিছু ইংলিশ ফুটবলভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
খবরটি যাঁরা ছড়াচ্ছেন, তাঁদের যুক্তি একেবারে আকাশকুসুম নয়। চলতি মৌসুমে লিভারপুলের আক্রমণভাগ প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিক নয়।
তার ওপর আলেকজান্ডার ইসাকের চোটে ক্লাবটি আক্রমণে বেশ ভুগছে। যদিও ইসাক শিগগিরই ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবু মাঝামাঝি সময়ে একজন ‘তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম’ তারকা দরকার—এমন ভাবনাই নাকি কাজ করছে লিভারপুলের মধ্যে।
এই জায়গাতেই মেসির নামটি আলোচনায় এসেছে। যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে ছয় মাসের জন্য এমন একজন সুপারস্টার, যিনি এলিট পর্যায়ে সঙ্গে সঙ্গে পারফর্ম করতে পারবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বোঝা হবেন না—মেসির চেয়ে ভালো বিকল্প নাকি নেই।
বর্তমানে মেসি খেলছেন ইন্টার মায়ামিতে। এমএলএসের সূচির কারণে এই সময়ে তিনি পূর্ণমাত্রার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নেই।
এই বিরতিটাকেই ইউরোপে স্বল্পমেয়াদি লোনে ফেরার সম্ভাব্য জানালা হিসেবে দেখছেন গুজবকারীরা।
তত্ত্ব অনুযায়ী, এতে করে মেসির ফিটনেস ও প্রতিযোগিতামূলক ধার বজায় থাকবে, আবার ইন্টার মায়ামির দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পেও বড় কোনো ছেদ পড়বে না।
লিভারপুলের জন্য মেসির মতো একজন ফুটবলারের আগমন কেবল মাঠের ভেতরের ব্যাপার নয়।
বাণিজ্যিক ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ের দিক থেকেও এটি হতো শতাব্দীর অন্যতম বড় ঘটনা। প্রিমিয়ার লিগ তখন কয়েক মাসের জন্য বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
তবে বাস্তবতা হলো, এমন সিদ্ধান্তে আর্থিক, শারীরিক ও চুক্তিগত ঝুঁকি রয়েছে। যদিও স্বল্পমেয়াদি লোনে সেই ঝুঁকি তুলনামূলক কম, তবু এত বড় নামের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
এই গুজবের সবচেয়ে বড় বাধা ইন্টার মায়ামি। ক্লাবটির পুরো প্রকল্পই মেসিকে ঘিরে গড়া।
তাঁর শারীরিক অবস্থা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঝুঁকিতে ফেলে এমন কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেবে—এমন ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা প্রস্তাবের খবরও নিশ্চিত নয়।
ইন্টার মায়ামির প্রাক মৌসুম প্রস্তুতির জন্য ১৫ জানুয়ারি থেকে মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।
২৪ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর আগামী মাসের ২১ তারিখ থেকে শুরু হবে মেজর লিগ সকারের নতুন মৌসুম।


