গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশ (৩৮) ও বিবেক বনিক (৪২)।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় সিএমপি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টায় জনৈক সবুজ দেবনাথ তাঁর সঙ্গে আরও ২ জনকে নিয়ে সিএনজি যোগে কোতোয়ালী থানাধীন সাবএরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে ২টি মোটরসাইকেলে ৪ ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করে যে, তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উক্ত ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তাঁর স্ত্রী পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশ (৩৮) অথবা তার চাচাত ভাই রবি কুমার দাসের (৪০) কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকা থেকে রবি কুমার দাসকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বীকারোক্তিমতে একই দিন রাত আনুমানিক পৌনে ১১টায় সিএমপির হালিশহর থানাধীন বড়পোল এলাকা থেকে পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সুমন চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বনিক-কে (৪২) বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাই করা ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে পান্না রানী দাসের হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা রবি কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লুণ্ঠিত স্বর্ণগুলো সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে রেখে যান।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জানুয়ারি ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার একটি বাসা থেকে একটি Pure it Classic Germ Kill Kit লেখা কাগজের বাক্স উদ্ধার করা হয়। এ বাক্সের ভেতর মৌজায় মোড়ানো ও হলুদ রঙের কসটেপ মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়, যার প্রতিটি বারের ওপর ইংরেজিতে ‘sam 10 TOLAS GOLD 999.0’ লেখা রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।


