বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে ফের ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া সীমান্তের ওপার থেকে থেমে থেমে গোলাগুলির বিকট শব্দ ভেসে আসে। বেলা ১১টার পরও পুনরায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় মো. আলমগীর (৩১) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি হোয়াইক্যং বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উখিয়া বিজিবি ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে।
গুলিবিদ্ধ জেলের বিষয়ে তিনি বলেন, “শুনেছি মাছ ধরতে ওই জেলে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিলেন, তখন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।”
বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবেই এই গোলাগুলি চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্তের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


