আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন বাছাই পর্বের প্রাথমিক তালিকায় চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই সংসদীয় আসনে এমন একজনেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যাকে ইতিপূর্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা, লুটপাট, দখল ও চাদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী মদদপুষ্ট বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মদদপুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগের সৈরাচারী শাসন আমলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এছাড়া নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জামায়াত সখ্যতার অভিযোগও রয়েছে। তিনি মাদ্রাসা ছাত্র হওয়ায় ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গা-ঢাকা দিলে তাদের ব্যবসায় বাণিজ্য, অফিস, মাছের ঘের, আড়ৎ, বালু মহাল, গাছের বাগান, পর্যটন কেন্দ্র, পেট্রোল পাম্প দখল করে হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেন।
এছাড়া তার অনুসারীরা গত ১৬ মাসে ১১ জনকে হত্যা করেছে। তার মধ্যে বিএনপির ৪ নেতা কর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যা করে।
এদের মধ্যে রয়েছেন মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিএনপি নেতা রফিক মেম্বার, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুন্না, বারৈয়ারহাট যুবদল নেতা জাহীদ, সোনা পাহাড় যুবদল নেতা সাইদ।
এছাড়া তাদের সশস্ত্র হামলায় আহত হয়েছে শখানেক বিএনপির নেতাকর্মী। আহত অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
নুরুল আমিন চেয়ারম্যান অনুসারী নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে পুরো উপজেলা জুড়ে মাদকের আখড়া তৈরি করেছে, ভারত থেকে ফেনসিডিল, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও গাজা এনে মিরসরাই সহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাচার করছেন।
এছাড়া ভারতীয় শাড়ি, লুঙ্গি, কসমেটিকস, ঔষধ পাচারের সাথে জড়িয়েছেন তারা। ভারতীয় চোরাই গরু ও বনবিভাগের রিজার্ভ ফরেস্ট মেকে কাঠ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতিদিন রেলের প্রায় ১০ হাজার লিটার তেল চুরি হয় এই নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে।
এমন একজন চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, চাদাবাজ, দখলদার ও নিজ দলিয় নেতাকর্মীদের হত্যাকারীকে মনোনয়ন দেওয়ায় মিরসরাই উপজেলা বিএনপিতে দেখা দিয়েছে হতাশা। তাদের আশঙ্কা কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপির রাজনীতি থেকে সটকে পড়তে পারেন। এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত মিরসরাই আসনটি বিএনপির হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ও মিরসরাই উপজেলা বিএনপির নেতেত্বে থাকা প্রায় অর্ধডজন নেতা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান কে মনোনয়ন না দিতে একটি খোলা চিঠিও দেন তারেক রহমান বরাবরে।
এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালনা অথরিটি বেজার বিভিন্ন জমি জোর খাটিয়ে অবৈধভাবে দখল ও বিভিন্ন শিল্প কারখানায় চাদাবাজির কারণে কালো তালিকা ভুক্ত করে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সহ ৫ জনকে।
বেজার কালো তালিকাভুক্ত একজন সন্ত্রাসী বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বেজার উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, মিরসরাই থেকে আমরা প্রায় অর্ধডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। আমাদের মধ্যে অন্য যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম কেন্দ্রের কাছে আমাদের আবেদন ছিল সন্ত্রাসী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্য যে কাওকে মনোনয়ন দিলে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।
যাকেই মনোনয়ন দিক আমরা সম্মিলিত ভাবেই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবো। কিন্তু দল কারো কথা রাখে নাই।
যে সন্ত্রাসী ৫ আগষ্টের পর বিএনপির নেতা কর্মীদের হত্যা করলো যাকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে দল বহিষ্কার করলো তাকেই মনোনয়ন দিলো।
আমরা দলের কাছে আপত্তি জানাবো দল যদি ভালো মনে করে প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে।
বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা প্রায়াত নেতা মেজর জেনারেল জেড় এ খানের ছেলে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য জিয়াদ আমিন খান মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
তিনি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর একটি সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার চেষ্টা চলছে। নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সেই ধারা থেকে বের হয়ে নিজ দলিয় নেতাকর্মীদের হত্যা করে বহিষ্কার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার অভিযোগ।
পত্রপত্রিকায় প্রচুর লিখালিখি হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে তার মনোনয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হতভাগ করেছে।
মিরসরাই তে সুস্থ ধারার রাজনীতি করে এমন অনেক যোগ্য নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সবাইকে বাদ দিয়ে একজন সন্ত্রাসী কে মনোনয়ন দেয়ায় আমাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের রাজনীতি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সাথে মিল নেই। তিনি মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাথে রাজনীতি করেনি।
তিনি ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, ভুজপুর, হেয়াকোঁ, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া এলাকার মানুষ ভাড়া করে এনে মিরসরাইতে মিটিং মাছিল করেছেন।
এসব ভাড়াটে লোক দিয়ে মিরসরাই বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করেছেন। সবকিছু জেনে শুনে বুঝে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কি বুঝে কোন স্বার্থে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে সেটা বলতে পারবোনা।
দলের ভালো চাইলে কেন্দ্র প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারেন। এখানে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ছাড়া যাকেই দেক সবাই এক হয়ে কাজ করবে।
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দলিয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাস, চাদাবাজের কারনে যে নেতাকে বহিস্কার করা হলো তাকে মনোনয়ন দেয়া মানে তার সকল অপকর্ম কে মনোনয়ন দেয়া।
এটা সাধারণত জনগণ বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকদের মর্মাহত করেছে এতোটুকু বলবো। বাকিটা কেন্দ্র ভালো বুঝে।
