ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক এক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ‘ভুয়া তথ্যে’ জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণকারী আবদুল জলিল, চট্টগ্রাম বন্দর থানার সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের সাবেক জন্মনিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমার দে।
দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবদুল জলিল কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীর বাসিন্দা দাবি করলেও তার কোনো জাতীয়তা সনদ, জন্মগ্রহণ ও বৈধ নাগরিকত্বের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ১৯৯১ সালে ঘুর্ণিঝড়ে তার বাবা-মা মারা গেছেন দাবি করলেও তার কোনো মৃত্যু সনদ নেই।
এজাহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের তৎকালীন জন্মনিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমারের যোগসাজশে ২০১১ সালের ২২ জুলাই ওই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন করেন আবদুল জলিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জন্মনিবন্ধন সহকারীর সই জাল করে তিনি জন্মনিবন্ধন করেন।
মামলায় নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি জাল জন্মসনদ দিয়ে আবদুল জলিলের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিয়েছেন। আশরাফুল কার্যালয়ে নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপের ব্যবহার এ কাজ সারেন। তিনি নির্বাচন কমিশনে কোনো রেকর্ডপত্রও দেননি।
জলিলের ‘ভুয়া জন্মসনদে’ ঠিকানা হিসেবে কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীর কথা থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে লেখা হয় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা।
তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফরমের ৪৬টি ঘর পূরণ করার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগই ফাঁকা রাখা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিডিনিউজ
