দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ৫.৭ রিখটার স্কেলের এই ভূমিকম্পে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক ভবনে ফাটলও দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকার বংশাল ও নারায়ণগঞ্জে ৪ জনের মৃত্যু ও বহু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পে বিল্ডিংয়ের রেলিং ভেঙে পড়ে রাজধানীর বংশালে কশাইতলীতে ৫ তলা ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে অন্তত তিনজন পথচারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
নিহতদের মরদেহ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিডফোর্ড) রয়েছে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু। আরেকজন ওই মেডিকেল কলেজেরই ৫২ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার নাম রাফিউল।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রেলিং পড়ে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়েছে আছে। আশপাশের কয়েকজন লোক দৌড়ে এসে সেগুলো উদ্ধার করছেন। অন্তত একজনের মুখ ও মাথার সামনের অংশ থেতলে গেছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে একজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।
এদিকে ভূমিকম্পের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভবন হেলে পড়া এবং ফাটল ধরার ছবি ভিডিও পোস্ট করছেন নেটিজেনরা।
প্রতিবেদক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোকাররম ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। শেখ মুজিব হলের পুরাতন ভবনের ৩য় তলার ছাদের ফাটল ধরেছে।
এদিকে, টঙ্গী রেলস্টেশন রোডের একটি ভবন হেলে পড়ে। রাজধানীর স্বামীবাগ এলাকার ৫২/এ নম্বর ভবনটি পেছনের একটি ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। বাড্ডা লিংক রোডের একটি ভবনও পাশের একটি ভবনের ওপর হেলে পড়ে।
নিউমার্কেটের নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেটের সামনের কনফিডেন্স ভবনটি অনেক খানি হেলে পড়েছে।
অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, এমন তীব্র ভূমিকম্প এর আগে কখনও দেখিনি।
ভূমিকম্প শুরু হতেই শহরের বিভিন্ন বহুতল ভবন থেকে মানুষজন দ্রুত নিচে নেমে আসতে শুরু করেন। অফিস, স্কুল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শায়লা পারভীন বলেন, আমি রান্নাঘরে ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো মেঝে দুলছে, প্রথমে বুঝিনি। যখন দেখি জিনিসপত্র পড়ে যাচ্ছে, তখন দৌড়ে নিচে নামি। ২০ বছরের জীবনে এমন কাঁপন দেখিনি।
গুলশানের একটি বহুতল ভবনের নিরাপত্তাকর্মী রফিক মিয়া জানান, বিল্ডিংটা এতো জোরে দুলছিল যে আমরা সবাই ভয়ে জমে গিয়েছিলাম। সবাই চিৎকার করতে করতে নিচে নামছিল।
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত দাস বলেন, ‘জুরি কাজে বাসার নিচে যাই। হঠাৎ খেয়াল করি ভূমিকম্প হচ্ছে।
এ সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি জোরে জোরে ঝাঁকি দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এখনই তার ছিঁড়ে পড়ে যাবে। বাসার সবাই নিচে নেমে আসে। অনেককে চিৎকারও করতে শোনা যায়।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন।
আফটার শকের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারজানা সুলতানা বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী— এই ধরনের ভূমিকম্পের পর ছোটখাটো আফটার শকের সম্ভাবনা থাকতেই পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখন পর্যন্ত তেমন সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাইনি।
গোপালগঞ্জ, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, সাতক্ষীরায়, নরসিংদী, যশোর, জামালপুর, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, কুমিল্লা, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, মাদারীপুর, শেরপুর, সিলেট, ফেনী, খুলনার প্রতিনিধিরাও ভূমিকম্পের তথ্য জানান।
অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এছাড়া পাকিস্তানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ৫ মার্চ রাজধানীতে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।
