বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের আকস্মিক কম্পন। ভূ-অভ্যন্তরে একটি শিলা অন্য শিলার ওপর সরে গেলে বা অবস্থান পরিবর্তন করলে ভূমি কেঁপে ওঠে।
আবার অনেক সময় ভূ-অভ্যন্তরের গ্যাস ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলে সেখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়।
পৃথিবীর উপরের স্তরের চাপ দ্রুত সেই জায়গায় নেমে আসায় তীব্র কম্পন তৈরি হয়—যাকে আমরা ভূমিকম্প বলি।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি ঘটে—
ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
শিলাচ্যুতিজনিত চাপ সঞ্চয় ও মুক্তি
ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও এই অল্প সময়েই প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা মাপা হয়। স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০। মাত্রা ৫-এর ওপরে হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
৫–৫.৯৯: মাঝারি
৬–৬.৯৯: তীব্র
৭–৭.৯৯: ভয়াবহ
৮-এর বেশি: অত্যন্ত ভয়াবহ
রাজধানীর ভূমিকম্পের মাত্রা কত ছিল এবং এর উৎস কোথায়—তা জানতে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার এবং পরবর্তী নির্দেশনায় নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
করণীয়
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলে কী করবেন? বর্তমানে খুব ঘন ঘন ভূমিকম্প দেখা দেয়, যে কারণে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা চিন্তায় পড়েছেন।
ভূমিকম্পের সময় যা করণীয় সে সম্পর্কে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা মেনে চললে ভূমিকম্পের সময় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
আতঙ্কিত না হয়ে আশ্রয় নিন
ভূ-কম্পনের সময় বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। অন্য কোথাও অবস্থান করলে সরাসরি টেবিল, ডেস্ক অথবা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নীচে আশ্রয় নিন।
এতে ভূমিকম্পের সময় দেয়াল বা ছাদ ভেঙে মাথার ওপর পড়া থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। ভূমিকম্পের সময় ভবন ধ্বসের ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো খোলা জায়গায় চলে যান অথবা ভবনের পিলার ঘেঁষে দাঁড়ান।
মনে রাখবেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হওয়া চলবে না। অনেকে শুধু আতঙ্কের কারণেই অসুস্থ হয়ে যান।
গ্যাসের চুলা, ইলেকট্রিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখুন
ভূমিকম্পের সময় গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা বিপজ্জনক। গ্যাসের চুলার আগুন নিভিয়ে না রাখলে দুর্ঘটনা হতে পারে। কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ ইলেকট্রিক সরঞ্জাম বন্ধ করে রাখা জরুরি।
অস্থির হবেন না
দেয়াল বা ভবনের নিচে পড়লে অস্থির না হয়ে কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন। যাতে নাক-মুখ দিয়ে ধুলাবালি শ্বাসনালীতে পৌঁছাতে না পারে।
গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে অবস্থান করলে বের হওয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি বা উত্তেজনা সৃষ্টি করবেন না। এ সময় দুই হাত দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।
লিফট ব্যবহার করবেন না
সহজে যাতায়াতের জন্য অনেকেই লিফট ব্যবহার করেন। কিন্তু ভূ-কম্পন থেমে গেলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হবে। লিফট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সতর্ক থাকুন।
গাড়িতে থাকলে কী করবেন
গাড়িতে থাকা অবস্থায় যদি ভূমিকম্প শুরু হয় তাহলে ওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান। গাড়ির ভেতরে অবস্থান করুন। ভূমিকম্প শেষ হলে গাড়ি চালানো শুরু করুন।
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে থাকুন
বিপদের সময় কাজে আসে এমন জিনিস আগেই রেখে দেওয়া শ্রেয়। ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চলাইট, মোমবাতি, টেবিল ফ্যান, পানি, শুকনো খাবার এবং ফার্স্ট এইড বক্স সঙ্গে রাখুন।
প্রয়োজনে গাড়িতেও একটি ফার্স্ট এইড বক্স রেখে দিন।

