back to top

সাবেক কাউন্সিলর জসিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০২:১০

কোটি টাকার বেশি ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ আয় ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীম ও তার স্ত্রী তছলিমা বেগমের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছে দুদক।

গতকাল রবিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি করা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, আয় ব্যয়ের অসঙ্গতি ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়েছে।

সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৪২) বিরুদ্ধে করা মামলায় এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩২ টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রোখার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলাটি করা হয়।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, তাছলিমা বেগম দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট এক কোটি ৮৮ লাখ ৭২ হাজার ১৯০ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে তার নামে দুই কোটি এক লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

যা তার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩০ টাকা বেশি। ফলে তিনি সম্পদ গোপনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন বলে দুদক প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়।

এ ছাড়াও দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাছলিমা বেগমের বৈধ আয়ের মোট পরিমাণ ৯৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪ টাকা। পারিবারিক ও অন্য খাতে ব্যয় বাদ দিয়ে তার নেট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৯৮৮ টাকা।

কিন্তু তার নামে অর্জিত সম্পদেও প্রকৃত পরিমাণ দুই কোটি এক লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় তার এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩২ টাকার সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তাছলিমা বেগম ব্যবসায়ী এবং তার নামে একক মালিকানা প্রতিষ্ঠানসহ ‘আরিবাহ ডেইরি অ্যান্ড ফুডস’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

অপরদিকে সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নগরের পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ জহরুল আলম জসিমের বিরুদ্ধে দুদক মামলাটি করেছে।

দুদক জানায়, জহরুল আলম জসিম দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৯ কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের তথ্য প্রদান করলেও যাচাই-বাছাইয়ে তার নামে পাওয়া যায় ৯ কোটি ৫৪ লাখ ১৭ হাজার ১৯২ টাকার সম্পদ।

একই সঙ্গে তিনি ঋণ দেখিয়েছেন তিন কোটি ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৭ টাকা। কিন্তু তদন্তে গ্রহণযোগ্য ঋণ পাওয়া গেছে মাত্র এক কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার ৮১৭ টাকা।

ফলে তার প্রকৃত সম্পদ দাঁড়ায় সাত কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা, যা তার ঘোষিত নিট সম্পদের তুলনায় দুই কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৫ টাকার বেশি।

এ ছাড়া দুদক কর্মকর্তার যাচাইয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন উৎস থেকে তার বৈধ পাওয়া আয় চার কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৪৮৫ টাকা। কিন্তু অর্জিত নিট সম্পদ পাওয়া যায় সাত কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।

বৈধ আয় উৎসের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯২ টাকা। জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলে রাখায় দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলাটি করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, জহরুল আলম জসিম ‘জেড এন্টারপ্রাইজ’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং ‘আরিবাহ ডেইরি অ্যান্ড ফুডস’এ তার ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

গত ৫ মার্চ ঢাকা থেকে কাউন্সিলর জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।