back to top

চট্টগ্রামে চার নারীর হাতে অদম্য পুরস্কার তুলে দিয়ে যা বললেন ডিসি

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৪:০২

চট্টগ্রামের সমাজ উন্নয়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হাত থেকে অদম্য নারীর পুরস্কার গ্রহণ করেছেন চারজন।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আয়োজনে এ চার নারীর হাতে “অদম্য নারী” পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেন ডিসি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজিত অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, আমাদের একজন বেগম রোকেয়া আছেন।

তিনি তাঁর সময়ের প্রতিকূলতা জয় করে নারীর জন্য কিছু করার কথা ভেবেছেন, সমাজে নারীদের মর্যাদার আসন দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। আমাদের মেয়েরা প্রত্যেকেই একেকজন রোকেয়া।

যারা সাফল্য পেয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘসময় ধরে অনেক পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন। এমন নয় যে, গতকাল শুরু করে আজই সফল হয়েছেন।

আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, সেসব পেরিয়ে তাঁরা সফল হয়েছেন; আবার অনেকেই মাঝপথে থেমে গেছেন, সফল হতে পারেননি।

আমরা যারা নারীদের জন্য কাজ করছি, আমাদের দায়িত্ব হলো এঁদেরকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া। সামনে তুলে আনা, সফল হতে সহযোগিতা করা।

তিনি বলেন, জীবন একবারই পাওয়া যায়; এই জীবনেই আমাদেরকে সফল হতে হবে। এজন্য কষ্ট করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে।

এমন নয় যে, জীবন বার বার ফিরে পাবো; একটা জীবন কোনোভাবে পার করে দিলেও পরেরবার জীবনকে সাজিয়ে নেব, সুন্দর করে শুরু করব। কাজেই আমাদের ভালো কিছু করার জন্য এই একটা জীবনকেই সুন্দর করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়েই তা করা সম্ভব হবে। নিজের মধ্যে অদম্য মনোভাব থাকতে হবে, বেগম রোকেয়া যদি পারেন, তবে আমরা কেন পারব না। তিনি সবাইকে ইচ্ছা, পরিশ্রম ও নীতিবোধের মাধ্যমে পারিবারিক জীবন যাপনের আহ্বান জানান।

এর আগে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, অদম্য নারী পুরস্কারপ্রাপ্তদের জীবন সংগ্রাম ও তাঁদের বক্তব্য শুনে তিনি ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।

তিনি বেগম রোকেয়া অবদান তুলে ধরে বলেন যে, সময় ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে একজন বেগম রোকেয়ার জন্ম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি যে কাজ করি তারচেয়ে আমার স্ত্রীর কাজগুলো অনেক কঠিন এবং অনেক বেশি পরিশ্রমের। তিনি বিশ্বের সব নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শরীফ উদ্দিন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষ করে অদম্য নারী পুরস্কার প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।

তিনি উপস্থিত সবাইকে নিজের পরিবারের সন্তানদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য না করার আহ্বান জানান।

পরিবারে আমরা যদি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করে সন্তানদের সুশিক্ষিত করতে পারি তাহলে রাষ্ট্র সুনাগরিক পাবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে অদম্য নারী পুরস্কার প্রাপ্তদের ক্রেস্ট, সনদ ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

এর আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত বেগম রোকেয়া দিবসের বিশেষ ডকুমেন্টারি “আমিই রোকেয়া” প্রদর্শন করা হয়।

পরে চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে অদম্য নারী পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবন-বৃত্তান্ত উপস্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অদম্য নারী পুরস্কার, ২০২৫ প্রাপ্তদের মধ্যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ড পূর্ব গোমদন্ডি রোহাইপাড়ার বাসিন্দা রতন দাশের মেয়ে শিপ্রা দাশকে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে এ পুরস্কার প্রদান করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।পুরস্কার

সাতকানিয়ার বাজালিয়া গ্রামের মো. আব্দুল আলিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনাকে শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে, সন্দ্বীপের মগধরা সেকান্দর কোম্পানীর বাড়ির মোহাম্মদ হোসাইনের স্ত্রী রেজিয়া বেগমকে সফল জননী নারী হিসেবে এবং সাতকানিয়ার পশ্চিম গটিয়াডেংগা গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে জান্নাতুল আদনকে নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সভায় অদম্য নারী পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীরা তাঁদের জীবন সংগ্রাম ও সাফল্য এবং সম্মাননা প্রাপ্তিতে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।