back to top

সাজিদ, বাবা ক্ষমা করো আমাদের-মোঃ নাজিম উদ্দিন বেলাল

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৩০

আহা! কী এক সরল বিশ্বাসে মাটি আঁকড়ে ধরেছিল শিশুটি! যখন সে পড়ে গেল, ওর কচি মনে একটাই দৃশ্য ভেসেছিল—কতবারই তো এমন পড়েছি, আর মা ছুটে এসে কোলে তুলে নিয়ে কপালে আদর করে দিয়েছেন। সেই চিরন্তন ভরসায়, সেই নিঃশর্ত ভালোবাসার টানেই তো সে ক্ষীণ কণ্ঠে ডেকেছিল, “মা… মা…”

​কিন্তু এবার…! এবার তার ডাক আর অভয় হয়ে ফিরে আসেনি। এই পড়ে যাওয়াটা যেন আর দশটা পড়ে যাওয়ার মতো ছিল না।

এই মাটি তাকে ধরে রাখতে পারেনি, আর এই সমাজ তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ প্রচেষ্টা দেখিয়েছে । ছোট্ট সাজিদ একা! সম্পূর্ণ একা, লড়ছে এক কঠিন, অসম যুদ্ধ।

সে হাত-পা ছুঁড়েছে, কষ্ট চেপে ধরেছে, হয়তো মনে মনে শুধু এক ফিসফিস প্রার্থনা করেছে—‘আর একটু, আর একটু টিকে থাকি, এই বুঝি মা এলো!’😭

​কিন্তু তার সেই একা লড়াই, সেই যুদ্ধ শুধু কিছুক্ষণের জন্যেই তার নিভু নিভু প্রাণটিকে ধরে রাখল মাত্র।

চারপাশে এত মানুষ, এত কোলাহল—তবু কেউ তার কাছে পৌঁছাতে পারলো না, কেউ তার আর্তনাদ শুনল না।

​একসময়, সেই ছোট্ট যু*দ্ধ শেষ হলো। ধীরে ধীরে ওর নিষ্পাপ চোখ দুটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে আসে। তবুও হয়তো শেষ মুহূর্তে, অতি ক্ষীণ একটুখানি চোখ মেলে দেখেছিল—এই বুঝি মায়ের আঁচলের ছায়া আসছে, এই বুঝি তাঁর বুকের উষ্ণতা!

​হুম… মা ঠিকই এসেছেন। তবে বড্ড দেরি করে। যখন মা এলেন, তখনো সেই একই ব্যাকুলতা, একই মমত্ব নিয়ে তাঁর বুকের ধনকে তুলে নিলেন। বুকফাটা আর্ত-নাদে ডাকলেন, “ও সাজিদ! ও বাবা! আমার কলিজা! সাড়া দে বাবা…” কিন্তু আজ, সাজিদ আর কোনো উত্তর দেবে না।

​কারণ সাজিদ দেখেছে—এই দেশ, এই রাষ্ট্র আসলে অ-সু-স্থ। এ দেশের সিস্টেম ভুল, রাজনীতিতে শুধু দলাদলি আর ক্ষমতা দখলের হিসেব। মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই এখানে।

সাজিদ হয়তো অভিমানে, প্রচণ্ড রাগে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এই পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে। সে চলে গেছে এমন এক দেশে, যেখানে শুধু শান্তি আর ভালোবাসা আছে। আছে ন্যায়বিচার।

​সাজিদের মায়ের সেই গগনবিদারী কান্না, সেই বুক চাপড়ানো আহাজারি, সেই তীব্র হাহাকার—আজ আর সাজিদের কানে পৌঁছাবে না। কারণ, যে রাষ্ট্র তাকে বাঁচানোর দায়িত্ব নেয়নি, তার কান্নাও সাজিদ শুনতে চায়নি।

​আজ এই সমাজ, এই রাষ্ট্রের বুকে একটাই প্রশ্ন শেলের মতো বিঁধে থাকুক:
​”ও সাজিদ বাবা আমার, আমাদের ক্ষমা করো… এই ব্যর্থতার দায়, এই নীরবতার পাপ আমরা বহন করেই যাবো, কবে শোধরাবো জানি না বাবা’।