back to top

ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে আলোচিত রাজনীতিক হয়ে উঠেছিলেন ওসমান হাদী

প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫৬

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন নিউজ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র সদ্য প্রয়াত  শরীফ ওসমান বিন হাদি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে শান্তশিষ্ট  মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন তিনি । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী । তবে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা ওসমান হাদীর রাজনীতিতে আগমন।

হাদির গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। বাবা ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় হাদির শিক্ষাজীবন শুরু। পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এক সময় কোচিং সেন্টার সাইফুর’স এ শিক্ষকতা করেছেন হাদি। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন বলেও জানা যায়।

মাদ্রাসায় পড়ালেখা করায় এবং ভাষা ও পোশাকের কারণে শিবির বা হিজবুত তাহরীরের কর্মী সন্দেহে ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁকে সন্দেহ ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে একাধিকবার বলেছেন হাদি।

তবে হাদী ও তাঁর সহকর্মীদের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না হাদি; তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করতেন, একাধিক বইও লিখেছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। ‘সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’ সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য।

এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিবির নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে ভোট করে ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনিম জুমা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ওসমান হাদি। রাজনৈতিক অবস্থান এবং তীব্র ভাষায় বক্তব্যের জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেন, ‘এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।’

গত জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদি বলেছিলেন, বিএনপি যদি ‘পুরোনো ধারায়’ রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।

বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীরও সমালোচনা করেছেন হাদি। এর বাইরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা, সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতামূলক মনোভাব এবং দৃশ্যত পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন।

চলতি বছর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডাকা ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার পর হাদি গোপালগঞ্জ জেলা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তীব্র ভাষায় বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের ভাষা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিতর্কের মুখে তিনি তাঁর শব্দচয়নকে ‘মুক্তির মহাকাব্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গত নভেম্বরে হাদি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে বলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাঁকে ফোন এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া ও তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকেরা তাঁকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখছে। ‘জীবননাশের আশঙ্কা’ সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না।

মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন হাদি।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

ইউডি