back to top

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:২১

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি করা হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদরদপ্তর থেকে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) ও পুলিশ সমন্বিতভাবে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে একাধিক স্তরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তারেক রহমানের বাসভবন, অফিস এলাকা এবং চলাচলের পথ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজধানীর যেসব সড়ক ও এলাকায় ঝুঁকি বেশি, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তারেক রহমানের যাতায়াতের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। এই পুরো কার্যক্রম ডিএমপি সদরদপ্তর থেকেই সরাসরি তদারকি করা হবে।

নিরাপত্তা ঘিরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকের একটিতে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজেই। বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেগুলো মোকাবিলায় বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকেই তারেক রহমানের নিরাপত্তায় পুলিশি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ এবং ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যরা একযোগে দায়িত্ব পালন করছেন।

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার দিনে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত পুরো এলাকায় কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত প্রতিটি থানার আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ‘স্পেশাল স্কট’ দল তার চলাচলের সময় সক্রিয় থাকবে।

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে একাধিক পুলিশি চেকপোস্ট। বর্তমানে এসব এলাকায় অন্তত নয়টি চেকপোস্টে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি তৎপরতা চলছে।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গুলশান এলাকায় আরও কয়েকটি চেকপোস্ট বাড়ানো হতে পারে।

গুলশানের বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন শতাধিক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তারেক রহমান যদি বাসভবনের বাইরে কোথাও যাতায়াত করেন, সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। তখন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তিন শতাধিক সদস্য সরাসরি তার নিরাপত্তায় যুক্ত থাকবেন।

ডিএমপি সদরদপ্তর সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি কেন্দ্রীয়ভাবে করা হবে। গুলশান ও উত্তরা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সদরদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শাহরিয়ার আলী জানিয়েছেন, বিশেষ কোনো একক বিভাগের ওপর দায়িত্ব না দিয়ে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন তারেক রহমান। বাসাটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’র পাশেই অবস্থিত।

কোনো কারণে ওই বাসা পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে তিনি খালেদা জিয়ার বাসা ফিরোজায় অবস্থান করবেন। দেশে ফেরার পর গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকেই তিনি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ডিএমপির গুলশান বিভাগ সূত্র জানায়, ফিরোজা ও তারেক রহমানের বাসভবন পাশাপাশি হওয়ায় দুটি বাসা ও অফিসকে একই নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।

বাসা ও অফিসের মধ্যকার চলাচলের পথকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল।

তবে সে সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিকল্পনাটি স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই তার প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে কেবল বৈধ টিকিটধারী যাত্রীরাই বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।