ফিফা বিশ্বকাপের জন্য টিকিটের চাহিদা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
ফিফার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের র্যান্ডম সিলেকশন ড্র টিকেটিং পর্বে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই ২০০টির বেশি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে ১৫ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি অবিশ্বাস্য মাইলফলক।
১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টিকিটিং পর্বে এখন পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলির সংখ্যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন
ফিফা জানিয়েছে, এই চাহিদা সরবরাহের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি, যা ১৯৩০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপের মোট দর্শকসংখ্যার চেয়ে প্রায় ৩.৪ গুণ বেশি।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপ হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সর্বজনীন ফুটবল আয়োজন।
১৫ দিনের মধ্যেই ১৫ কোটি আবেদন আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যা একটি অবিশ্বাস্য অর্জন। এটি দেখাচ্ছে যে আমাদের খেলা কতটা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়।’
ইনফান্তিনো আরও উল্লেখ করেন, ‘এবার আমরা ইতিহাস রচনাতে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আমরা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি একত্রিত উৎসব সৃষ্টি করব।’
বর্তমানে, র্যান্ডম সিলেকশন ড্র প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। পরবর্তীতে, একটি ড্র অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সকল আবেদনকারীকেই টিকিট পাওয়ার সমান সুযোগ দেওয়া হবে।
যারা প্রথম দফায় টিকিট পাবেন না, তারা পরবর্তী বিক্রয় পর্যায়ে টিকিট সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন।
তবে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে কিছু সমালোচনাও উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি।
বিশেষত, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের সস্তা টিকিটের দাম ৩ হাজার ১১৯ পাউন্ড হওয়ায় অনেকেই এই মূল্যকাঠামোকে ‘কেলেঙ্কারিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এ বিষয়ে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, টিকিটের এত বেশি চাহিদার কারণেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এত বেশি চাহিদা দেখে আমাদের বিক্রি পরিকল্পনা পুরোদমে চলে আসতে হয়েছে। মাত্র ১৫ দিনে ১৫ কোটি টিকিটের আবেদন এসেছে, যা আমাদের জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ।’
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হবে এই বিশ্বকাপ, যেখানে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।


