back to top

জানাজার নামাজের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ বিধি-নিষেধ

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:৪৫

মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য জানাজার নামাজ এক মহৎ ফজিলতের কাজ। একজন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য বিশেষ নিয়মে মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা হয়।

যাকে জানাজার নামাজ বলা হয়। ‘জানাজা’ শব্দের অর্থই হল মরদেহ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাজার নামাজে উপস্থিত থাকার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, একজন মুসলিমের অন্য মুসলিমের প্রতি পাঁচটি অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে জানাজার নামাজে উপস্থিত থাকা অন্যতম।

নবীজির হাদিসে বর্ণিত, জানাজার নামাজে যারা পুরো নামাজে অথবা অন্তত দাফনের সময় উপস্থিত থাকেন, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল সওয়াব রয়েছে।

জানাজার নামাজে উপস্থিত থেকে মুমিনরা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন, যা তার পরকালের কল্যাণের জন্য বিশেষ কার্যকর।

৪০ জন সৎ মুমিন যদি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজায় দাঁড়ান এবং আল্লাহর সাথে শরিকত্ব না করেন, তবে আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন।

জানাজার নামাজ চার তাকবিরে আদায় করতে হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে সানা পড়তে হয়, এরপর দরুদ শরিফ ও বিশেষ দোয়া পড়া হয়।

নামাজ শেষে সালাম দিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। নামাজের নিয়ত আরবি বা বাংলা যেকোনো ভাষায় করা যায়।

জানাজার নামাজে জুতা পরা অবশ্যই পবিত্রতার শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য। জুতার নিচে নাপাকতা থাকলে জুতার ওপর দাঁড়ানো নিষেধ।

একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য পৃথক পৃথক জানাজা আদায় করাই উত্তম, তবে একত্রে পড়াও জায়েজ।

গায়েবানা জানাজা, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির মরদেহ না থাকলেও জানাজার নামাজ পড়া, সাধারণত জায়েজ নয়।

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ আদায়ের মতো কেউ উপস্থিত না থাকলে, গায়েবানা জানাজা পড়া যায়।

সন্তানের দোয়া মৃত পিতার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত। নবীজির হাদিস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আমল বন্ধ হলেও সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তানদের দোয়া অব্যাহত থাকে।

ইতিকাফে থাকা অবস্থায় মসজিদের বাইরে বের হয়ে জানাজার নামাজ পড়ালে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। মসজিদের ভিতরে জানাজার নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরিমি বিবেচিত।