আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজেদের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
স্থাবর-অস্থাবর ও বার্ষিক আয় মিলে মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর।
এছাড়াও তার নামে ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা রয়েছে। তিনি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। তার নামে কোনো কৃষি জমি নেই। পিতা-মাতা ও স্ত্রী সন্তান তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে অংশ নিতে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামের কাছে জমাকৃত মনোনয়নপত্রের হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি।
হলফনামায় হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো উল্লেখ করেছেন, ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে তার। তার নামে কোথাও কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই।
তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকার মূলধন রয়েছে। পিতা-মাতা স্ত্রী সন্তানের নামে ব্যাংক বা আর্থিক কোনো প্রতিষ্ঠানে তার নামে কোনো ঋণ নেই। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করছেন বলে হলফনামার পেশা বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী গৃহিনী।
হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপি মনোনীত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারবারের নির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন এরিয়া নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) নির্বাচনী আসন।
এটি জাতীয় সংসদের ২৫২ নম্বর আসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন। এ আসনে মোট ১১৬টি ভোট কেন্দ্রের ৭২৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে হলফনামায় নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
হলফনামার তথ্যে উঠে এসেছে- তার নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা ভবন নেই। হাতে নগদ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকারও কম।
হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যা তিনি দান হিসেবে পেয়েছেন।
জমিটি অর্জনের সময় মূল্য ছিল মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টাকা, তবে বর্তমানে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় আরো উল্লেখ করা হয়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্যও ৭৫ হাজার টাকা।
তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এ ছাড়া হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানায় কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা ভবন নেই।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
আয়কর নথি অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এর বিপরীতে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।
