back to top

বন্ডের অনিয়ম ধরতে ব্যাংক হিসাব তলব শীর্ষ রফতানিকারকদের

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:০৭

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও চোরাচালানের অভিযোগ বিস্তর। প্রতিবছর এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের কাপড়, পোশাক ও গার্মেন্টস সামগ্রী ঢুকছে দেশের খোলাবাজারে।

অনিয়ম ধরতে এবার বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। খতিয়ে দেখা হচ্ছে শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক লেনদেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করে রপ্তানির বদলে খোলাবাজারে বিক্রি সন্দেহে বড় রপ্তানিকারকদের গত পাঁচ বছরের ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এসব তথ্য অ্যাসাইকুডা সিস্টেমসহ আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ডেটা বেইসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

বন্ড ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ড কার্যক্রমে সব ধরনের ম্যানুয়াল ইউটিলিটি পারমিশন (ইউপি) বাতিল করা হয়েছে।

এখন থেকে কাঁচামালের প্রাপ্যতাসহ সব বন্ডসেবা শুধু কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বন্ডের অপব্যবহার রোধে এখন অটোমেশন শতভাগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছ।

বন্ডেড গুদামে নিয়মিত মজুদ পরীক্ষা করা হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা হবে।

টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বন্ড অপব্যবহার ও চোরাচালানের কারণে তাঁরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বছরে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের পণ্য এভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

তাঁরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এনবিআরের মাঠ পর্যায়ের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় অনিয়ম বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার কর অঞ্চল-৮-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে সাতটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বছরের ব্যাংক লেনদেন তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য আমদানি-রপ্তানি চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

অসংগতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে ধরে নেওয়া হবে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কর অঞ্চল-১৫ আটটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক তথ্য তলব করেছে। সারা দেশে এ সংখ্যা শতাধিক ছাড়াতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বিটিএমএর স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের কাপড় ও পোশাকের চাহিদা রয়েছে। যার মধ্যে স্থানীয় মিলগুলো সরবরাহ করে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার।

বাকি অংশ আসে বন্ড অপব্যবহার বা চোরাচালানের মাধ্যমে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, কয়েকজনের অনিয়মের দায় পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ওপর চাপানো ঠিক হবে না।

মূলত বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় রপ্তানিকারকরা শর্ত সাপেক্ষে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করতে পারেন। এসব কাঁচামাল অনুমোদিত গুদামে সংরক্ষণ করে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে হয়। তবে কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করতে হলে কাস্টমসের অনুমতি নিতে হয়।

এ ছাড়া পণ্যের ধরন অনুযায়ী ৪০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াতে এ সুবিধা চালু করা হয়। আশির দশক থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে এ সুবিধা বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু রপ্তানিকারক শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করে দ্বিগুণ ক্ষতির সৃষ্টি করছে। একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্প বিনিয়োগে নিরুৎসাহ হচ্ছে। সূত্র-কালের কণ্ঠ