কনকনে হিমেল হাওয়ার প্রবাহে হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়।
রাত থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে গোটা জনপদ, আর কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছে মানুষ। টানা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে যেন স্থবির হয়ে পড়ছে এই জেলার স্বাভাবিক ছন্দ।
গেল তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই শৈত্য প্রবাহে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।
আজ সকাল থেকেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকলেও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, সকাল ৭টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
চলতি মৌসুমে এটিই চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামী আরও দুই-একদিন তাপমাত্রা একই ধরনের থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
শীতের দাপটে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া মানুষ। কাজে বের হলেও শরীর কাঁপে, আয় কমে, দুশ্চিন্তা বাড়ে। ঝুঁকি এড়াতে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষিকাজও। মাঠে কাজ কমেছে, সবজি ক্ষেতে শিশিরের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বাড়ছে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘সকাল থেকেই রাস্তাঘাট ফাঁকা,যাত্রী নেই। তবুও রিক্সাচালকরা পেটের দায়ে বের হয়ে ঠাণ্ডায় কাবু হতে হচ্ছে।
এদিকে শীতার্তদের সহায়তায় জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের ছিন্নমূল মানুষ ও বিভিন্ন এতিমখানায় কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।


