back to top

বাংলাদেশের নাম উঠল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায়

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:১৫

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) হালনাগাদ ঘোষণায় ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফলে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের বি-ওয়ান এবং বি-টু (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।

নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

কত টাকা বন্ড দিতে হতে পারে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড ধার্য করা হতে পারে।

আবেদনকারী ভিসার জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার তার ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

তবে কনস্যুলার অফিসারের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

কেন চালু হলো ভিসা বন্ড
মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পাইলট প্রোগ্রাম। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও দেশে ফিরে না যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ভিসা ওভারস্টে নিরুৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কখন বন্ড ফেরত পাওয়া যাবে
ভিসা বন্ড একটি সম্পূর্ণ ফেরতযোগ্য জামানত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী,

* ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে,
* ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে
* অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে

এসব ক্ষেত্রে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন বা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয়), তাহলে ওই বন্ড বাজেয়াপ্ত করা হবে।

নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকরা কেবল বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি তৈরি হবে।

তালিকায় আরও যেসব দেশ
বাংলাদেশ ছাড়াও ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, কিরগিজস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তুভালগা, তুভালগা, তুগাল, তাজিকিস্তান। ভেনেজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে।। দেশভেদে এই নিয়ম কার্যকরের সময় ভিন্ন হতে পারে।

ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো সাময়িক ভিসাধারীদের জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা, যার মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অবস্থানের সময়সীমা মানা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মেয়াদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু করে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।