জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।
পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রবিবার (২ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়ে এই বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীনএকাত্তরের হত্যাযজ্ঞে জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন
মাহবুব উল আলম হানিফ ছাড়াও মামলার অপর তিন আসামি হলেন- কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
গত ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন পক্ষ এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। অভিযোগে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র করা, কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা করা।
গত ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-২ এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাদের আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেন।
তবে, ১৪ অক্টোবরের নির্ধারিত দিনে আসামিরা হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। পলাতক থাকায় আইন অনুযায়ী তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুব উল আলম হানিফ এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত সংস্থা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।


