চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিয়েবাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন পশ্চিম গোদার বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুইজন হলেন – চকরিয়া পৌরসভা তরছঘাটা পশ্চিম ভাটাখালী এলাকার নবাব মিয়ার ছেলে মোঃ সোহেল (২৫) এবং টেকনাফ পশ্চিম গোদার বিল এলাকার আহাম্মদ হোছনের ছেলে মো. আব্দুল করিম (৩৬)।
আরও পড়ুন
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় মহানগর গোয়েন্দা শাখা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, গত শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার নতুন বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র ডাকাতদল।
১০/১৫ জনের ডাকাতদলটি ওই পরিবারের সকল সদস্যের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নগদ দুই লাখ টাকা এবং কয়েকটি স্মার্টফোন লুট করে নেয়।
পরে পরিবারের প্রধান মোহাম্মদ মিয়া (৬৫) এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারার জয়কালী বাজারের তাহিন কনভেনশন সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রাতে নিজ বাড়িতে ফেরেন।
কিছুক্ষণ পরই সাদা ও আকাশি রঙের পোশাক পরা ৮ জন ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে অস্ত্র হাতে ঘরে ঢোকে। অস্ত্রের মুখে সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘরের আলমারি ও লকার ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং দুটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়।
নববধূর শ্বশুরবাড়ির সদস্য মো. আলমগীর বলেন, ডাকাতদের মুখোমুখি হলেও ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং অস্ত্র তাক করলে তারা পিছু হটে যান। পরে আমরা নিজ উদ্যোগে ডাকাতদের পিছু নিই কিন্তু তারা শান্তিরহাট হয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর দায়িত্ব অবহেলার কারণে ঘটনাস্থলে ডিউটিতে থাকা তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডাকাত দলের কয়েকজন আগে থেকেই বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি সেজে উপস্থিত ছিল। তাদের ধারণা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে রবিবার দুপরে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়।


