সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘আপৎকালীন তহবিল’ থেকে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ ড. সরওয়ার জাহানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অপর আসামি হলেন সাবেক রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাম্মেল হক।
দুদকের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন রোববার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আক্তারুল ইসলাম সংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষক ও কর্মকর্তা/কর্মচারীর আপৎকালীন তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
একই সঙ্গে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মচারীর বেতন বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেবে ৮৮ হাজার ৭৩৮ টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শুনাগরী গ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াছের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে পরে ঋণ পরিশোধের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ২৮ লাখ ৮ হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০০৭ সালের ১৫ জুলাই সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায় ইউনিভার্সিটির নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের প্রবর্তক শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত হয়।
অভিযুক্ত ড. সরওয়ার জাহানকে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা-সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রে সিগনেটরি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২০১০ সালের ২৭ মে তিনি একটি হিসাব খোলার আবেদন করেন।
পরে ৩০ জুন ইউনিভার্সিটির নামে ০১১৯০৩১০০০০১৮৬৫ নম্বর হিসাব খোলা হয়। হিসাবটির স্টেটমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুরু থেকে গত বছরের ২২ জুন পর্যন্ত মোট ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার টাকা জমা করা হয়েছে এবং ওই পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন সময়ে সরওয়ার জাহান তুলেছেন।
এ ছাড়া সরওয়ার জাহান ব্যাংক এশিয়ার অধীনে এজেন্ট সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা করেন।
ওই কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত কমিশনের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে জমা করেননি।
উল্টো কর্মচারী এস এম মুনিউল ইসলামকে বেতন বাবদ ৮৮ হাজার ৭৩৮ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে দিয়েছেন।

