back to top

চট্টগ্রামের ৬টিসহ ৬৩ আসন কেন ফাঁকা রাখলো বিএনপি?

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৬:০১

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বাকি ৬৩টি আসনের প্রার্থী নিয়ে। এই আসনগুলোতে প্রার্থী না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাকি ৬৩ আসন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২৩৭ আসনে আমরা সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলাম।

এরপরে আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, সেই দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে, এই আসনগুলোতে তারা আসতে পারেন অথবা আমাদেরগুলোও আমরা চেঞ্জ করতে পারি।

অর্থাৎ, বিএনপি আপাতত তাদের জোটের শরিক দল ও যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলোর জন্য এই আসনগুলো ফাঁকা রেখেছে।

দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই আসনগুলোতে তাদের নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেতে পারেন।

ফাঁকা রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের ৬টি আসনও। এরমধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম ৬ (রাউজান),চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) ও চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি।

দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও উওর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

দুই নেতার বিরোধে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ১৪ টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে ছয়টি।

দুজনের কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে দলে বিরোধ আরও চাঙা হয়ে উঠতে পারে সে আশঙ্কায় আপাতত ঘোষণা করা হয়নি।

একই অবস্থা চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে। সেখানে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা না দিলেও আসনটিতে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও বিএনপি নেতা শামসুল আলম এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তাঁদের একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যেতে পারে। তাই পরে এই আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে দলের নীতি নির্ধারকেরা।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশী নেই। এই কারণে এই দুটি আসন জোটের জন্য হাতে রাখা হয়েছে।

এলডিপির সঙ্গে জোট হলে অলি আহমদ ও তাঁর ছেলেকে এ দুটি আসন দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আবার শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হলে জামায়াতে ইসলামী সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন পেতে পারে।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ইস্রাফিল খসরু দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছেন।

আমীর খসরুকে একটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করা হবে কিনা সে হিসাব-নিকাশ চলছে। এই আসনে একজন ব্যবসায়ী নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মনোনয়ন চাইছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তরিকুল আলম।

তাঁরা আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একাধিক প্রার্থী থাকায় কোন্দল ঠেকাতে এই আসনের প্রার্থী হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।