back to top

স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ের অপরাধে তরুণকে হত্যা করল প্রবাসী,অতঃপর…

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:০১

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে আতুরার ডিপো সঙ্গীত আবাসিক এলাকায় মো. হাসিব নামের এক তরুণকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়েরের পর ৪ নভেম্বর রাত ২টা ২০ মিনিটে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীপুকুর পাড় এলাকা থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম (৩১)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা এবং ভিকটিমের জুতাও পুলিশ উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, প্রবাসীর এক স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করেন হাসিব। এর জের ধরে ক্ষুব্ধ ওই প্রবাসী দেশে এসে তাঁকে খুন করেছেন।

পাঁচলাইশ থানা সূত্র জানায়, নিহত মো. হাসিবুল ইসলাম (২৬) নগরের ২ নম্বর গেইট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করতেন। তিনি ব্যবসায়ী মো. ইমরান বিন ইসলামের ছোট ভাই।

প্রায় চার–পাঁচ মাস আগে হাসিবুলের পরিচয় হয় জাহেদুল ইসলামের স্ত্রী প্রীতি তানহা (২৪)র সঙ্গে। ফেসবুকের মাধ্যমে শুরু হওয়া সম্পর্ক এক পর্যায়ে প্রেমে রূপ নেয়।

মাসখানেক আগে ওই নারী হাসিবকে বিয়ে করে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। স্বামীকে বিদেশে তালাকনামা পাঠিয়ে দেন। সেটি পেয়ে ক্ষুব্ধ স্বামী সপ্তাহখানেক আগে দেশে ফিরে আসেন।

কয়েকদিন ধরে ওই প্রবাসী তাঁর সাবেক স্ত্রীকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এমনকি, হাসিবকেও বুঝিয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে চেষ্টা করেন।

বিষয়টি জানতে পারেন তানহার স্বামী জাহেদুল ইসলাম, যিনি পরে হাসিবুলকে একাধিকবার ফোনে হুমকি দেন।

৩ নভেম্বর দুপুরে জাহেদুল ইসলাম চা খাওয়ার কথা বলে হাসিবুলকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যান।

পরে সঙ্গীত আবাসিক এলাকার মন্নান সাহেবের বাড়ির সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি কোমর থেকে ধারালো ছোরা বের করে হাসিবুলের বুকে, পিঠে ও গলায় আঘাত করে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত হাসিবুলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই ইমরান বিন ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলাইমানের নেতৃত্বে এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন (পুলিশ পরিদর্শক, তদন্ত), মো. মনিরুল ইসলাম (এসআই), মো. নুরুল আবছার (এসআই), ইমন দত্ত (এসআই), জমির উদ্দিন (এএসআই), মো. আবু ছালেক (এএসআই) এবং কনস্টেবল সাগর কান্তি শীলসহ একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তি ও গুপ্তচরের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৪ নভেম্বর রাত ২টা ২০ মিনিটে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীপুকুর পাড় এলাকা থেকে জাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

পরে তার দেখানো ও সনাক্ত স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা এবং ভিকটিমের ১ জোড়া সেন্ডেল উদ্ধার করা হয়।

পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, “অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।”