সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ধরনের বিজ্ঞাপনের বিস্তার রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো প্রতিরোধমূলক নানা ব্যবস্থা চালু করেছে।
তবু এর বিস্তার রোধ করা গেছে খুব কমই। বরং এসব কোম্পানির আয়ের বড় একটি উৎস হয়ে উঠেছে ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা ও তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা গত বছর মোট আয়ের ১০ শতাংশ ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে আসবে বলে নিজস্ব এক প্রাক্কলনে তুলে ধরেছিল।
কোম্পানির গত তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে রয়টার্স বলছে, অবৈধ ও প্রতারণামূলক বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং নিষিদ্ধ চিকিৎসা সামগ্রীর বিজ্ঞাপন থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে মেটা।
এসব ভুয়া বিজ্ঞাপনে এমন সব পণ্য বা সেবা দেয়ার কথা বলা হয়েছে যা বাস্তবে নেই। নকল পণ্য দেখিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ আদায়ের ফাঁদ পাতা হয় ফেসবুক ইনস্টাগ্রামসহ মেটা মালিকানাধীন প্লাটফর্মগুলোয়।
রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী মেটার কাছে বিজ্ঞাপনভিত্তিক প্রতারণা শনাক্তের ব্যবস্থা থাকার কথা। তবে কোনো বিজ্ঞাপনদাতার প্রতারণায় জড়িত থাকার বিষয়টি ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত না হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না প্রতিষ্ঠানটি।
বরং সন্দেহজনক বিজ্ঞাপনদাতাদের থেকে বেশি অর্থ নিতে শুরু করে, যেন তারা নতুন করে বিজ্ঞাপন না দেয়। কিন্তু অনেক সময় এসব বিজ্ঞাপনদাতা বিজ্ঞাপন চালিয়েই যায় এবং এর ফলে মেটার আয় আরো বেড়ে যায়।
গত বছরের ডিসেম্বরের নথি অনুযায়ী মেটা প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীদের প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ‘উচ্চ ঝুঁকির’ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখানো হয়।
একই বছরের শেষের আরেকটি নথি থেকে জানা যায়, এসব বিজ্ঞাপন থেকে মেটা প্রতি বছর প্রায় ৭০০ কোটি ডলার আয় করে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ এ বিষয়ে মতামতের জন্য মেটার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেছেন, ‘সংবাদমাধ্যমটির ব্যবহৃত নথিগুলো এ ঘটনার পুরো চিত্রটা তুলে ধরে না; বরং মেটার প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি পক্ষপাতদুষ্ট বা বিভ্রান্তিকর ধারণা দেয়।’
স্টোন আরো বলেন, ‘গত ১৮ মাসে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি প্লাটফর্ম থেকে ১ কোটি ৩৪ লাখের বেশি ভুয়া বিজ্ঞাপন সরানো হয়েছে।
অ্যান্ডি স্টোন বলেন, ‘কোম্পানির আগের একটি অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী সতর্কতামূলক প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছিল।
সেখানে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের আয়ের ১০ দশমিক ১ শতাংশ প্রতারণা ও নিষিদ্ধ বিজ্ঞাপন থেকে আসবে।’ তবে স্টোন কোনো হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেননি।
প্রতারণা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মেটার সাবেক নিরাপত্তা তদন্তকারী সন্দীপ আব্রাহাম বলছেন, প্রতারণার সম্ভাবনা আছে এমন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকেও আয় করতে পারে মেটা।
তার মতে, এটি বিজ্ঞাপন শিল্পে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের অভাব প্রতিফলিত করে।

