সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে নতুন মোড় নেওয়ায় আজ সোমবারও (১০ নভেম্বর) সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে।
রবিবার রাতে কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলেও মধ্যরাতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিক্ষক নেতারা।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতা মু. মাহবুবর রহমান সোমবার সকালে নিশ্চিত করেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি উভয়ই চলবে।
আজকের বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসলে আমরা বিদ্যালয়ে ফিরে যাব। না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
রবিবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
এক শিক্ষক নেতা জানান, শিক্ষকসমাজ কর্মবিরতি স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। সেজন্য আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে।
শিক্ষকরা তাদের তিন দফা দাবি, বিশেষত দশম গ্রেডে বেতন-ভাতার দাবি উত্থাপন করবেন এই বৈঠকে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা সোমবার সকালে বলেন, আমরা সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।
তবে শিক্ষকরা এখন দশম গ্রেড চাইছেন। সেটা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শিক্ষকদের জানাবেন।
দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৬ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মবিরতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, আর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

