back to top

বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ ৩৯ মেট্রিক টন ঘনচিনি জব্দ

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৪

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃক বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি জব্দ করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পণ্য চালানটি আটক করা হয়।

সোমবার (১০ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস আজ আমদানি নিষিদ্ধ ৩৯ মেট্রিক টন ঘনচিনি আটক করেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের অডিট, ইনভেস্টিনগেশন ও রিসার্চ (এআইআর) টিম খালাসের শেষ মুহূর্তে পণ্য চালানটি আটক করে।

আটককৃত চালনের তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এস.পি. ট্রেডার্স, ২১৮ মিটফোর্ড রোড, বংশাল, ঢাকা বিগত ০৪/১০/২৫ তারিখে পলি অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ঘোষণায় চীন থেকে তিনটি কন্টেইনারে ৬৩ মেট্রিক টন পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করে।

চালানটি খালাসের জন্য আমদানিকারকের পক্ষে সি বার্ড করপোরেশন, ২০০/বি জুবিলি রোড, চট্টগ্রাম কর্তৃক বিল অব এন্ট্রি নং ১৮২৮২৭৮, তারিখ- ৭ নভেম্বর দাখিল করা হয়।

পণ্য চালানটি খালাসের জন্য ট্রাকে লোড করার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম কর্তৃক ওই পণ্যের খালাস স্থগিত করা হয় এবং গত ২৮ অক্টোবর সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা করা হয় এবং পরীক্ষাকালে দুই ধরনের পণ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যার নমুনা উত্তোলনপূর্বক কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের ল্যাবে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে দুই শ্রেণির পণ্যের মধ্যে একটিতে ২৪ মেট্রিক টন পলি অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড পাওয়া গেলেও বাকি ৩৯ মেট্রিক টন পণ্যকে ঘনচিনি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘনচিনি একটি কৃত্রিম মিষ্টিকারক যা সাধারণ চিনির চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি।

বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকোলেট, কনডেন্সড মিল্ক এবং শিশু খাদ্য তৈরিতে সাধারণ চিনির পরিবর্তে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী এই ক্ষতিকারক কৃত্রিম উপাদানটি ব্যবহার করে থাকে।

ঘনচিনি দিয়ে তৈরি খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ঘনচিনির দ্বারা প্রস্তুত খাদ্য ক্যান্সারসহ কিডনি ও লিভারের জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

জনস্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর বিধায় সরকার আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ অনুসারে পণ্যটিকে আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

নিষিদ্ধ ঘনচিনি আমদানি করায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর বিধান মোতাবেক পণ্যচালানটি কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম কর্তৃক আটক করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।